মুসেরোস টাউন কাউন্সিল “আপনার পোষ্য, আপনার দায়িত্ব” নামে একটি সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করেছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো পোষ্য মালিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণ গ্রহণে উৎসাহিত করা এবং পৌরসভার মধ্যে বাসিন্দা ও তাদের পোষ্যদের মধ্যে যথাসম্ভব সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার জন্য সচেষ্ট হওয়া।
এই উদ্যোগটি এই ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যে, প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি মৌলিক নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলাও আবশ্যক । বিষয়টি কেবল স্নেহ প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি নিশ্চিত করা যে প্রাণীর মঙ্গল যেন জনপরিসরের প্রতি সম্মান বা অন্যান্য নাগরিকদের সুরক্ষায় কোনো বাধা সৃষ্টি না করে।
সহাবস্থানের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা ও নিয়মাবলী
সকলে যাতে অবগত থাকেন, সেজন্য নগর পরিষদ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছে। মালিকদের মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, তাদের পোষা প্রাণীকে সর্বদা শিকল দিয়ে বেঁধে ও নিয়ন্ত্রণে রাখা অপরিহার্য । পাশাপাশি, মাইক্রোচিপ লাগানোর মাধ্যমে তাদের নিবন্ধন এবং পরিচয়পত্র হালনাগাদ রাখতে হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নগর পরিচ্ছন্নতা। এই প্রচারাভিযানটি নাগরিকদের তাদের পোষা প্রাণীর বর্জ্য তুলে ফেলার জন্য আহ্বান জানায় , যাতে রাস্তা ও চত্বরে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা প্রতিরোধ করা যায় এবং এর মাধ্যমে সকল বাসিন্দার জন্য আরও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
শিশুদের এলাকায় বিধিনিষেধ এবং নতুন সাইনবোর্ড
এই পরিকল্পনার একটি বাস্তব অংশ হিসেবে, শহর জুড়ে বিভিন্ন পার্ক ও সবুজ স্থানে নতুন তথ্যফলক স্থাপন করা হয়েছে । এই ফলকগুলো বিশেষ করে শিশুদের খেলার জায়গাগুলোতে বেশি চোখে পড়ে, যেখানে পশুপাখি প্রবেশ নিষিদ্ধ।
এই পদক্ষেপটির লক্ষ্য হলো , কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর প্রবেশ নিষিদ্ধ এলাকাগুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়ে ছোট শিশুদের স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া । মেয়র ক্রিস্টিনা সিভেরা যেমনটি ব্যাখ্যা করেছেন, এর মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ জ্ঞান এবং সম্প্রদায়ের মঙ্গলের কথা বিবেচনা করার ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের অঙ্গীকারকে কাজে লাগানো।
আইনি কাঠামো এবং সামাজিক বাস্তবতা
এই নির্দেশিকাগুলো কোনো যথেচ্ছ পরামর্শ নয়, বরং আইন দ্বারা সমর্থিত। সুনির্দিষ্টভাবে, উল্লিখিত বাধ্যবাধকতাগুলো ‘নাগরিক সহাবস্থান এবং জনপরিসর সুরক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী অধ্যাদেশ’-এর ২৬ ও ২৭ নং অনুচ্ছেদে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে , যা ১২ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে প্রাদেশিক গেজেটে (বিওপি) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
নগর পরিষদ লক্ষ্য করেছে যে, ভ্যালেন্সিয়ান কমিউনিটির পরিবারগুলোতে পোষা প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এই ধরনের প্রচারণাগুলোকে আরও জোরদার করা অপরিহার্য। এর লক্ষ্য হলো একটি অধিকতর বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরাপদ নগর মডেলের দিকে অগ্রসর হওয়া, যেখানে নাগরিক দায়িত্ববোধই মানুষ ও তাদের পোষ্যদের মধ্যকার সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তোলে।
মুসেরোসের এই উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের মূল্যবোধকে সুসংহত করা। জনসচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে নগর পরিষদ আশা করে যে, সর্বসাধারণের ব্যবহার সংঘাতমুক্ত হবে এবং সম্পত্তির মালিক ও সাধারণ জনগণ উভয়েই শ্রদ্ধা ও পরিচ্ছন্নতার আবহে নগরীর স্থানগুলো উপভোগ করতে পারবে।